রবিবার, ২০ মে, ২০১২

ছোট্ট এক দিনের বেড়ানো--- দক্ষিন পাদ্রে


গাড়ি পাশে রাখো/ আমাদের আমেরিকান COAST GUARD আটকালো/ আমাদের অপরাধ? ওরা ট্রাভেল DOCUMENT দেখতে চায়/ হাতের কাছে নেই/ পেছনে TRUNK-E আছে/ আমরা SOUTH পাদ্রে থেকে আসছি/ ছোট  একটা দেড় দিনের  বেড়ানো/ ভারী সুন্দর ছোট্ট একটা দ্বীপ/ সমুদ্রের ধরে অনেক বার গেছি/ অনেক জায়গায়/ ভালো লাগার তালিকায় পাদ্রে অনেক ওপর দিকে থাকবে/ বেশ একটা আমেজ নিয়ে ফিরছিলাম, সাব্বু ঘুমোচ্ছে, আমরা টুক টাক কথা বার্তা বলতে বলতে ফিরছিলাম/ তাল কেটে গেল/  
আমি বেরোতে যাব, পেছনের TRUNK খুলে পাস্স্পর্ট ইত্যাদি বার করব, আমায় বারণ করা হলো/ ওরা না বললে নাকি বেরোনো নিরাপদ নয়!!! কেন? সামান্য বেচাল দেখলেই নাকি গুলি করে দিতে পারে!!! ওহ! STRANGE ! এটা BORDER এলাকা/ MEXICO থেকে MAINLAND -E  ঢোকার এটা নাকি একটা সহজ পথ/ অনেকটা আমাদের বাংলাদেশ আর WESTBENGAL এর BORDER এর মত/
যে ছোকরা DOCUMENT  দেখল , দারুন দেখতে/  আমরা একটা সংকর দল/ দুজনের স্টুডেন্ট ভিসা , WORK  পারমিট, দুজন টুরিস্ট ভিসা, সাব্বু তো এখানকার সিটিজেন/ রুটিন কাজ/ DOCUMENT দেখে ছেড়ে দিল/ বাঁচা গেল/ চলো ভাই চলো/ গাড়ি চলল এগিয়ে/

আমাদেব্র ভাবনাটা ছিল একদিনে যাব, এক রাত থাকব, পরদিন ফিরে আসবো/ প্রায় সাড়ে তিনশ মাইল/ মানে এখানকার হিসেবে ছয় সাত ঘন্টার ড্রাইভ/ মাঝে থামতেই হবে, সঙ্গে বাচ্চা আছে/ সাত আট ঘন্টা লাগবেই/ আমরা তৈরী  হযে ই  বেরোব/ খুব তাড়াতাড়ি বেরোব বেরোব করেও বেরোতে বেরোতে নটা বেজে গেল/ ফার্স্ট স্টপ ছিল ব্রেকফাস্ট. বাড়ি থেকে বেরিয়েই থেমে গেলাম আমরা/ টুকটাক কিনে নেওয়া হলো বুরিতো আর বিসক/ বাংলা করে বলতে হলে বলতে হয় এগ রোল আর পাউরুটি চাপা  মাংস/ সঙ্গে জল থাকবে এক ঝাঁকা / পেট ভরে যাবেই, গেল ও/

রাস্তা দেখা  হযেছে গুগুল করে / INTERSTATE610  থেকে STATE59 / তারপর STATE77 / আমরা ৫৯ পর্যন্ত যখন তখন যাই/ এইত গত কালই আমরা মধুপুর গিয়েছিলাম/ না, না, চোখ গোল গোল করার কিছু নেই/ জায়গাটার নাম সুগারল্যান্ড/ আমি মধুপুর নাম দিয়েছি / চিনিপুরটা ঠিক জমে না, তাই/ ওখানে ঢোকার আগে সুগার ক্রিক, সুগার রো, সুগার বে, সুগার লেক এই রকম সব নাম/ ভারী মিষ্টি জায়গা না? HOUSTONER  উপকন্ঠে/ দারুন জায়গা কিন্তু/ সব ছক কষে নতুন ডেভেলপ করা হযেছে কিনা, ছবির মত সুন্দর/ বড় বড় সব রাস্তা, সুন্দর সুন্দর বাড়ি/ অনেক গাছ আর ফওয়ারা/ প্রায় সব হৌসিং  এলাকাতেই  কুলিং সিস্টেম ফওয়ারা দিয়ে করা/ কাজের সাথে সৌন্দর্য্য  বাড়তি পাওয়া গেল/

গাড়ি প্রায় ১২০/১৩০ এ চলছে. বাইরে বেশ গরম/ আমাদের নতুন গাড়ি/ নিঃসব্দে চলছে/ লেখার বানান যা আসছে, আমার হাত নেই, মেনে নিতে হচ্ছে/ বাংলায় লিখতে পারছি, তাতে আমি দারুন খুশি, এইটুকু নাহয় মেনে নিলাম/ হাঁ, যা বলছিলাম/ মধুপুর পেরিয়ে এলাম/ গতকালই কত দূর মনে হযেছিল/ সবই মনের খেলা যা বুঝলাম/ আজ যে মনকে বলেছি আরও দুরে যাব!প্রথম ROUNDE  চন্দ্রবিন্দু শেষ/ পাশে পাশে মালগাড়ি চলছে/ এখানে যাত্রী বাহী রেলগাড়ি কম/ এমনকি বাসেও লোক কম/ রাস্তায় চলতে চলতে মালগাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি দেখিনি/ বিশাল লম্বা/ মাঝে মাঝে দোতলা/ একটা কন্টেনারের ওপর আরও একটা চাপিয়ে দিয়েছে/ আমেরিয়াকায় আসা ইস্তক যা অপচয় দেখছি, এটা দেখে ভালো লাগলো / ১০০ টার বেশি কামরা, দোতলা ধরলে আরও বেশি, দুটো  ইঞ্জিনে টানছে/ কানসাস থেকে আসছে/ কানসাস? কোনদিন যাব কি?

রাস্তার আশপাশ অগোছালো হযে আসছে/ সহুরে কেআরী নেই আর/ রাস্তার নাম DAILY রোড/ মজার নাম না? কেআরী নেই ঠিকই, সহরে যা থাকেনা, এখানে আছে/ একদিক গেল তো আর একদিকে ভরিয়ে দিল/ দুপাশে হলুদ  হলুদ আর হলুদ/ ছোট ছোট সূর্যমুখী ফুটে আছে অফুরন্ত, অগুন্তি/ ময়দানে হলুদ কার্পেট/ এই সময়ে এই একটা চোখের সুখ/ চোখ ভরে দেখে যাও/

সাকিন ROSENBURGH /আমরা স্টেট হাই way ৭৭ খুঁজছি কখন থেকে / দেখা নেই/ গাড়িতে  আলোচনা  হচ্ছে  ঠিক  পথে  চলছিত আমরা ? আমাদের  ভূতাত্ত্বিক দিকে  ভুল  করেননা / উনি  বললেন দিক তো ঠিক-ই আছে. দক্ষিনে যাবার কথা, দক্ষিনেই চলেছি, ৭৭ না এলে কি করা যায় /

দুপাশে  ধু  ধু  প্রান্তর / চাষ দেখা  যাচ্ছে / আমরা  চন্দ্রবিন্দুর  ফাজলামো ছেড়ে দেবব্রত  বিশ্বাসকে  ডাকলাম / যেখানে  পথ  নাই  নাই  রে ... উনি  আমাদের  পাগলা  হাওয়ায়  ভাসিয়ে নিয়ে চললেন / মাঝে  যতদুর  চোখ যায়  চষা  জমি / কি  গাছ  জানিনা / মাঝে  কোনো  আল  নেই / টানা  জমি  কত  একর কে জানে! মাঝে  শুধু  গাছের  ফাঁকে  সিথি  দেখা  যাচ্ছে /কে তোমার চুল বেধে দিয়েছে মাঠ? যারা  চাষ  করে  তারা  কোথায়  থাকে ? আমাদের  ওখানকার  মত  খেতের  মাঝ  খানে  ছোট্ট একটা  কুঁড়ে  ঘর  কই ?
































WHARTON, পরের  গাঁ/ এখানকার গাঁ বলতে চেহারা কিন্তু একদম অন্যরকম/ বিস্তৃত  খেত / নতুন  পাখি  দেখা  গেল / আমাদের  সকুনের জাঠতুত  খুরতুত  ভাই বোন হবে/ বেশ  আংরেজ  আংরেজ  দেখতে / স্মার্ট  ছুঁচলো  ঠোঁট , পেটটা  ধুসর  সাদা , ডানা  মেললে  কালোর  টান দেখা  যাবে  হয়তো / গাড়ি  হুস  করে  বেরিয়ে যায়, তৈরী  চোখ  থাকলে  চট  করে  ধরে  নেয়/ আমার  সময়  লাগছে / পাখির নাম জানা গেল PEREGRINE ফ্যালকন/ গুগুলদাকে জিগ্গেস করলে ছবি দেখিয়ে দেবে/ হিংসুটে শিকারী চেহারা/ ইলেকট্রিক তারের ওপর বসে/  শুনশান মাঠ ঘাট/ বাতাসেও যেন কোনো তাড়া নেই / আমরা ছুটে চলেছি বটে, বাইরে প্রকৃতি শান্ত একদম/ উনি ওপরে বসে দেখছেন কাকে তাক করা যে/ এরা ছোট ছোট পাখি ধরে খায়/ আকাশ পথে চলতে চলতে হুস করে নেমে আসে।

পাশে  factory  দেখা  যাচ্ছে / আমেরিকায় চট করে factory চোখে পরেনা/ বোধহয় অনেক বাধা নিষেধ / আর  একটা  নতুন  জিনিস  দেখলাম  --- মেটালিক  ধানের  গোলা/ অনেক অপচয় বাঁচে নিশ্চই/ বানাতে কিন্তু অনেক খরচ/ বানাচ্ছে, তাও দেখলাম/ দেখে মনে হলো প্রিফ্যাব এখানে এনে এসেম্বল করছে/ প্রথমে অনেক খরচ, যা অপচয় বাঁচবে তাতে টাকা উঠে আসার কথা/এখানে  চাষ হয় , স্টোরেজের  বন্দোবস্ত  ভালো /
আমরা  থামলাম / এখানে  হাই wayer  ধারে  পেট্রল  station ভারী  ভালো  থামার  জায়গা/ এখানে বলে গ্যাস station / কেন? একদম পরিষ্কার টয়লেট/ মেয়েরা সাথে থাকলে দেশে এই একটা অসুবিধে বড্ড কষ্ট দেয়/ তারপর একটু হাত পা খেলিয়ে নিয়ে যাও,ভালো খাবার জায়গা আছে/ সবই চট জলদি খাবার / অনেক রকম, নিজের পছন্দ মত বেছে নাও / দাম কিন্তু একই, একটু এপাশ ওপাশ / বেশি দাম হাঁকলে খরিদ্দার হবেনা/ সবাই পরের statione  চলে যাবে/ আমাদের অন্য কাজ আছে/ বাচ্চার পরিচর্য্যা / আরও একটা জরুরি কাজ আছে, জেনে নেয়া রাস্তা ঠিক আছে কিনা/ মায়েরা বাচ্চাকে নিয়ে পড়ল/ পাশের truck-er ড্রাইভারকে জিগ্গেস  করে  জানা  গেল  রাস্তা  ঠিকই  আছে / চলুক ৫৯, Victoria (জায়গার নাম)  শেষ  হলে  ৭৭ -এর  দেখা  মিলবে / চিন্তা  নেই , সোজা চলো/ শান্তি /

একটু  এগোতেই  RANCH / এইটা  TEXAS  স্পেশাল / RANCH -এর   বাংলা  কি  হবে ? খামার ? ঠিক  যেন   rancher গন্ধ  আসে  না / ranch-এ  পশু    পালন   হয় / গরু  ভেরা / ঘোড়ায় চেপে  কাউবয়/  হ্যাট   মাথায়  রাখাল (রাখাল   বলা  যায়  কি -- এদের  চালই যে  আলাদা ) ঘোড়ায়  চড়ে পাহারা  দেয় / রোদে  পোড়া চামড়া , রুখু  শুখু  গায়ে  মোটা জিন্সের  মত   কাপড়ের  জামা, অনেক পকেটওয়ালা প্যান্ট, মুখে সিগার, চুরুট(বিড়ি হলে কেমন লাগবে ?)/ এখানে  দুপাশে  যেমন  ranch  দেখলাম , ঘর  দেখলাম , স্বাস্থ্যবান/বতী গরু, ভেড়া চোখে  পড়ল  না  তেমন/   ছাড়া  ঘোড়া দেখতেই  অন্যরকম  লাগে / আমি তো একদম শিশুর মত হাঁ করে তাকিয়ে ছিলাম/ স্বাস্থ্য বলে দিতে হয় না/ দেখা যায়।কোনো দিকে খেয়াল  নেই, আপনমনে খেয়ে যাচ্ছে পা আর ল্যাজ নাড়তে নাড়তে/ অনেকটা সময় কাটিয়ে দিতাম হয়ত / মনে পড়ে গেল বাচ্চা সহ ওরা ফিরে আসার আগেই সিগারেট শেষ করতে হবে/ পাম্প ছেড়ে একটু বাগানের দিকে এগোতেই  একটা  টারান্তুলার সাথে  দেখা  হয়ে গেল/আবলুস  কালো  পা / অন্য  মাকড়সার  যেমন  একটা  ভুঁড়ি থাকে , এরটা  বেশ  বড় / তাতে  আবার  কি  সব  ছবি  আঁকা  আছে / টারান্তুলা ভাষায় ডেঞ্জার লেখা বোধহয়! অনেকটা  যেন  মড়ার খুলির  মত  ডেঞ্জার  সাইন/ দেখা  দিল, ছবি  তুলতে  দিল  না  কিছুতেই / একটা ৪৪০ ভোল্ট কনেক্সন এর সাথে দারুন ভাব মনে হলো/ ওখানেই লুকোচুরি খেলতে লাগলো/

একটা  কবরস্থান  পেরিয়ে  এলাম / এত্ত  সুন্দর  লাগছিল / জানিনা  আজ  এখানে  আমাদের  মহালয়ার  মত  কোনো  দিন  ছিল  কিনা --- যেদিন  মৃত পূর্বপুরুষদের  স্মরণ  করা  হয় -- সব  কবরে  ফুল / কত  রঙের  ফুল! খুবই  বর্ণময়  উত্সব উত্সব  লাগছিল /

পাশেই  গাড়ির  কবরস্থানও দেখলাম !এখানে পুরনো লজঝরে গাড়ি বেচা যায় না।কেনার লোক নেই। নিজের খরচে এই গাড়ির কবরস্থানে এনে ফেলতে হবে।

MUSTANG ক্রিক  পেরিয়ে  এলাম / জলার  ধরেই  কবরস্থান /তারপর    অনেকটা জায়গা  জুড়ে  RV (residential vehicle) পার্ক /  এই  একটা  শখ রযে গেল / কবে  যে  আমার  মেয়েটা একটা  RV কিনবে!বেশ RV করে আসবো, কাম্প করব নদীর ধারে, শহর থেকে অনেক দুরে।

LAVACA নদী  পেরোলাম / ছোট নদী/ মাত্র ১১৫ মাইল লম্বা/ এর নামের অর্থ করলে দাঁড়ায় "COW RIVER "/ মনে  পড়ে  গেল  পুনেতে LAVASA complex  আছে  না ! ওখানে কি গরুরা থাকে?এই রে পুনার বড়লোক বন্ধুরা রেগে যাবে নাত?

GUADALUPE নদী  একদম  শুকিয়ে  গেছে / এই নদী SAN ANTONIO -তে  বেশ ব্যস্ত নদী/ নানা ওয়াটার স্পোর্টস খেলা হয় / রাফটিং, CANOEING , TUBING / আর এখানে দেখো, একদম শুকিয়ে অসুস্থ হযে পরে আছে! কেমন মায়া হয় না? কেউ যদি খুব বর্ণময় জীবন কাটিয়ে তারপর এক কোনে পরে থাকেন -- অনেকটা সেই রকম! যেন পুরনো দিনের কোনো নামী সিনেমা আর্টিস্টের ভাঙ্গাচোরা চেহারা! নদী চুপি চুপি বলল বর্ষার পর একবার এসো/ দেখিয়ে দেব মেজাজ কাকে বলে!

দারুন  চমক/  তারপরেই  এই  প্রথম  ছাগল  দেখলাম / এখানে  ছাগল  শুধু   দেখাই যায়  না,না , পাঁঠার মাংসের  ভারী  অভাব / ল্যাম্ব , গরু, শুওর, হরিন সব পাবে; পাঁঠা একটু খুঁজতে হবে/

দিন  বাড়ছে , বাইরে  ৮৬  ডিগ্রী (F) / রাস্তায়  পরিষ্কার  মরিচিকা  দেখা  যাচ্ছে / অশরীরী  গাড়ির  ছায়া / ইন্দ্রানী  সেন  কৃষ্ণকলির  সাথে  আলাপ  করিয়ে  দিচ্ছেন / সাব্বু  ঘুমলে  তবেই  গান  শোনা  যাবে  আস্তে/ গাড়ি তো  ঠান্ডা , মেয়েটা   সিট  বেল্ট  বেঁধে  থাকবে  না  কিছুতেই / এখানে  বাচ্চা যতই কাঁদুক ওকে  ওর সিটেই  রাখতে  হয় / বাধ্য  হযে কোলে  নেওয়া  হলো / পাগলি  গাড়ির  কার্পেটের  ওপর  বসে  চলেছে / খুবই  বিপদজনক , গাড়ি  ১২০  তে  চলছে , একটা  ব্রেক  খুব  ভয়াবহ  হতে  পারে / সে  দিম্মুর  কোলের ওপর  দাঁড়িয়ে  দাঁড়িয়ে যাবে / উফ ! জ্বালালে /

আমরা  CORPUS  CHRISTIE -র  কাছাকাছি  এসে  পরলাম / পশ্চিম  দিক উইন্ড মিল -এ  ভরা / গুনতে  শুরু  করলাম / দুশোর  পরে গুলিয়ে গেল/ একটা মাল গাড়ি  এসে  পড়ায়/ রাস্তায়  কিন্তু  গাড়ি  নেই .. আমরা একদম  একা / উল্টো  দিক  থেকে  দু  একটা  আসছে  বটে  আমাদের  সামনে  পেছনে  কোনো  গাড়ি  নেই / জ্যাম -এ  পড়লে  অন্য  গাড়িগুলোকে  কেমন অসহ্য লাগে /আর  এখানে একদম  সুনসান  রাস্তায়  অন্য  রকম  ফিলিং ! ঠিক  কেমন ?বোঝাতে পারব না/ দু একটা গাড়ি আগে পিছে থাকলে যেন ভালো হত/

আরও  দুটো নদী  পেরিয়ে এলাম / MISSION আর NUECES./ কেমন  যেন  নদী  নদী  নাম  না / তাই না?NUECES সব্দটা স্পানিশ/ মানে বাদাম/ এই নদীর ধার বরাবর পেকন গাছের ছড়াছড়ি/ পেকন গাছে অনেক বাদাম হয় বৈকি/ সেই থেকেই এই নাম বোধহয়/ ছোট  নদী,  আসেপাশে  জল  ছড়ানো /   সমুদ্রের কাছে  এসে  পরছি  তো / নদীরা চলতে  চলতে  এখানে  এসেই  শেষ  হযে  যায় ! জল জলই থাকে, নাম বদলে যায় শুধু/


TEXAS TROPICAL TRAIL বলে  একটা নোটিস  দেখলাম /পরীক্ষা মূলক ভাবে পাম জাতীয় গাছ লাগানো হচ্ছে/ দেখা  হচ্ছে  এরা  বাঁচে  কিনা /  মোটামুটি  দাঁড়িয়ে  গেছে  দেখছি/ নিস্ফলা পাম না লাগিয়ে একদম  সেই  "এক  পায়ে  দাঁড়িয়ে  সব  গাছ  ছাড়িয়ে  " লাগালে  পারত! এরা  তো  তাড়ি খায়  নি !বুঝবে না ভাই, বুঝবে না/ লাগালে  ওটাও  পেত / গাছ  কাটবে  কে ? ম্যানুয়াল  লেবর ভারী  দামী  যে   এখানে / হাই  স্কিল  জব / অনেক  H1B হত  কিন্তু !



McLLEN পেরিয়ে  গেলাম / এখানে  LINDA থাকেন . মামানের বন্ধুর  মা / অসম্ভব  স্নেহ  করেন  ওকে / ইশ , কতবার  উনি  বলেছেন  আস্তে / এখনই উনি  HOUSTON -এ আর   আমরা  এখান  দিয়ে  যাচ্ছি / নিঃশব্দে  বলে  দিলাম  ভালো  থাকুন / আমরা  কাছাকছি   তার  মানে /

BROWNSVILLE -এ প্রথম  বোর্ড দেখলাম  SOUTH OF PADRE / বাড়ি  ঘর  আশপাশ  পাল্টে  যাচ্ছে , পাল্টাচ্ছে  লোকের  চেহারা , দোকানের  চেহারা,  এমনকি  পসরাও/ রাস্তার  ধারে  গাড়িতে  ফলের  দোকান  খোলা  হযেছে/ সেই ATALFU আম  বিক্রি  হচ্ছে . ভাবছিলাম   ফেরার পথে  সময়  করে থামবো, দর  করব, কিনি  আর  না  কিনি/ ওখানে  $1 এ  দুটো  তিনটেও যেমন  বিক্রি  হয় , আবার  $1 এ  একটাও  বিক্রি  হয় / পাতলা  খোসা , বেশ  মিষ্টি  ভালো  আম /

পোর্ট ISABELA / পোর্ট ISABEL -ও বলে / আমি ইসাবেলা লেখা দেখেছি/ এখানে এই কদিন আগেও PINTA  আর NINA  ছিল দেখার জন্য/ কলম্বাস-এর জাহাজের নকল মডেল/ মার্চ মাসে সে প্রদর্শনী শেষ হযে গেছে / এখানে আরও মজা আছে/ এখানে নাকি নাবিকদের ভূত দেখা যায়/ এখানে GHOST  SOCIETY আছে / পারানর্মাল SOCIETY আছে / তারা অনেক যন্ত্র পাতি নিয়ে মাপ ঝোক করেছে/ অনেক রকম আওয়াজ বাক্স বন্দী করেছে/ OCTOBER মাস থেকে সে সব শোনানো হবে/ তার জন্য দক্ষিনা দিতে হবে বৈকি/ এখন থেকেই বুকিং চলছে/ আমরা এখানে থামবো না/ অনেকক্ষণ চলছি আমরা/ হোটেল ঘরে ঢুকতে হবে আগে / একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার/ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিলাম বাতিঘর।সেই পুরনো দিনের চেহারা। ইতিহাস জুড়ে আছে নিশ্চই। একটু পরেই দেখলাম মস্ত গরিলা বসিয়েছে খেলাঘরের সামনে।সাব্বু ঘুমোচ্ছে,দেখতে পেল না। এখানেই বোধহয় ভুতের খেলা দেখানো হয়।














এখান থেকেই  দেখা  যাচ্ছে  ওপারে  SOUTH OF PADRE তটরেখা / সরু লম্বা  দ্বীপ , টুরিস্টদের স্বর্গ / মাঝে  মাঝে  দুতিনটে উচু  বাড়ি  দেখা  যাচ্ছে / আর  সব ছোট  ছোট / দেখা  যাচ্ছে  বড়  ছোট  মিলিয়ে  অনেক  হোটেল  মোটেল/ skyline টা দারুন  সুন্দর / রাস্তা  একটা  ব্রিজে- এ  উঠে  যাচ্ছে / সুন্দর  ঝক ঝকে ব্রিজ / QUEEN ISABELLA  CAUSEWAY / ছবি তোলার জন্য যেন দাঁড়িয়ে আছে / আমাদের কিন্তু ছবি তোলা হলো না / একদম এসে গেছি/ আগে ঘরে ঢুকি/ বড্ড জালাচ্ছে সাববু/ ওর খিদে পেয়ে গেছে নিশ্চই/ পাঁচটা বেজে গেছে/ সত্যিই তো কটা বাজে? কেউ একটা ট্যাঁক থেকে ঘড়ি বার কর না ভাই/ এই রাস্তায় হুট করে থামাও যাবে না/























হুশ  করে  সামনে  আশেপাশের  ছবি  টুরিস্ট  স্পটের  মত  হযে গেল / LAGUN VISTA  জায়গার  নাম / বেশ  ভালো  লাগলো/ নাম  কেন  ভালো  লাগে ? কেমন  করে? সার  সার  দোকান , সবাই  পসরা  সাজিয়ে  খদ্দের  ধরার  জন্য  বসে/ উকিল  (এখানে  এটা  দারুন  অর্থকরী  ব্যবসা ),RANCH, খাওয়া ,RV,স্পীড  বোট, থাকা , মাছ  ধরার ---- হরেক  রকম  বিজ্ঞাপন / এখানে  সব  পেট্রল পাম্প  VALERO, সঙ্গে  সব  মনিহারী  দোকানের  নাম STRIPE / এতদিনে  এই  দুটো নাম চোখে  পরেনি/ এখানে  একচেটিয়া  দেখলাম/ কোনো  মেক্সিকান  ব্যারন মালিক  বোধহয়, উনি  ওপাশে  বাড়তে  চান  না হয়ত/ সব  কটা জায়গাই ঝকঝকে/ বেশ  ভালো  চলে  বোঝা  যায়/ LAGUNA VISTAয় গলফ কোর্স  আছে/ বেশ সুন্দর করে বিজ্ঞাপন করেছে "PERFECT PLACE TO VISIT FOR A WEEKEND, A MONTH, MAY BE A LIFETIME"

আমরা ব্রিজ পেরিয়ে  ঢুকে  পরলাম/ ডানদিকে  মনে  হলো  সব  খেলাধুলো আর  মজার বন্দোবস্ত/ দুটো  বড়  হোটেল /  বিশ বাইশ  তলা  হবে/ আমরা  বাঁদিক  নিলাম/ TRAVELODGE কোথায়? ODOMETER বলছে  ৫৮১ , সময়      ৫.৩৫ সন্ধ্যে / আলো ঝকঝক করছে কিন্তু/ মানে  ৩৭০  মাইল/ আমরা  প্রায় আট   ঘন্টা  নিলাম/ মাঝে  আমরা  তিন  বার  থেমেছি/ আমাদের  খাওয়া  দাওয়া , বাচ্চা  সামলানো  দু  আড়াই ঘন্টা নিশ্চই থেমেছি/  ছয় ঘন্টা ড্রাইভ  করা হযেছে/ গড় স্পীড ৬০ মাইল/ আমাদের  দেশে  কথাও  এই স্পীড  পাওয়া  যায় না / এই  জন্যই  এখানে  বাই  রোড চলার  এত্ত  আনন্দ/ ভাবছিলাম আর  চোখ  ঘুরিয়ে  দেখছিলাম / লাভ   AT FIRST SIGHT এর  মত/ যা  কিছু  দেখছি  ভালো  লাগছে / সত্যি -ই  ভালো  সমুদ্র সৈকত / এবার এখান  থেকে   দেখা  যাচ্ছে  ওপারে  পোর্ট ISABELA তটরেখা /
ঢোকার রাস্তা 
ঐ লাল গাড়িটার সামনেই আমাদের ঘর
সোজা এগিয়ে ডাইনে মুরলেই সাগরবেলার গলিপথ।

সন্ধে হযে  এসেছে


















আমাদের  বুক  করাই  ছিল/ যতক্ষণ  ওরা  ব্যস্ত  আমি একটু  চোখ  ঘুরিয়ে  নিচ্ছিলাম / এই  দ্বীপটা একটা ৩৪ মাইল  লম্বা  রীফ / মজার  কথা  হলো  এ  একদম  তন্বী / সবচেয়ে মোটা  জায়গাটা  0.৫  মাইল/ মানে  মাঝখানে  এমন  অনেক  জায়গা  আছে  দুদিকেই  সমুদ্র  দেখা  যাবে/ GULF OF  MEXICO আর  LAGUNA  MADRE BAY / মেন  ল্যান্ডের  সঙ্গে  যে  সুন্দর ব্রিজ দিয়ে যোগাযোগ--- মানে QUEEN  ISBALLA  MEMORIAL  CAUSEWAY  সেটা ২.৫  মাইল  লম্বা/ ভারী  সুন্দর  কিন্তু / ভাবলেই  মনে  হচ্ছে  যাবার  সময়  আবার  দেখা  হবে/

সারা  বছর এখানে  টুরিস্ট আসে/ তবে এটা ছাত্রছাত্রী দের খুব মনের মতন জায়গা/ স্প্রিং ব্রেকে এটা প্রেম নগরী হযে যায়/ ভাবতেই ভালো লাগছে আমার, ছেলে মেয়েরা খুব সুন্দর একটা জায়গা পেয়েছে মজা করার জন্য/ পরিবেশটা কিন্তু ভালো/ চারপাশে অসভ্য লোকজন, একটু সামলে চল বাপু, সেই রকম নয়/ সমুদ্রের ধারে যেমন  হয়  শীতকালেও  টেম্প  ৬৫ , যেখানে  গরম  কালে  ৮৫ / এরা  সুন্দর  একটা শব্দবন্ধ বার  করেছে  দেখলাম ---" jacketless winter ". tourism , tourism   -- ঠিক   ঠিক  শব্দ   বলে  ফেল  টুরিস্ট  থমকে  থেমে  যাবে/ ব্যাস   কেল্লা  ফতে /

আরও  দারুন  দারুন  মজা  আছে/ এখানে  টাই পড়লে  ফাইন হয়/ এটা  বেড়াবার  জায়গা , কেজো টাই-এর জায়গা নেই, তাই  নির্বাসন/ প্রথমবার  সাবধান করা হবে, সাথে  একটা  কমপ্লিমেন্টারী  T-শার্ট দেওয়া হবে শেখানোর  জন্য --- কেমন  করে  ইনফরমাল  হতে  হয় / টাই ছাড়াও  বাঁচা যায়  যে!! দ্বিতীয় বার  একই  ভুল  করলে  বাপু  ফাইন হবে  --- cost of one of the finest silk tie / তাই বলে  এখানে  convention  center নেই ? ভারী  সুন্দর  একটা  convention center আছে/ প্রচুর  কনফারেন্স  হয়/ এই  বার  বোঝা  গেল  এই  হাইরাইজ  হোটেলগুলোর  খদ্দের  কোথা থেকে আসে/ এখানে  মাত্র  পাঁচ  হাজার  লোক  থাকলে  কি  হবে  (মাত্র দুই বর্গ মাইল জায়গা), সারা  বছরে  নাকি  দশ লাখ লোক  বেড়াতে  আসে ! যারা   TEXAS -এর  বড়লোক  তারা  এখানে  বাড়ি  ঘর  করে  রাখে/ শীতের  সময়  এখানে  থাকে  টানা , বাকি  সময়  বাড়ি  থেকে  রোজগার  হয়/ মেয়েকে  বললাম  এখানে  একটা  বাড়ি  কিনে  রাখ/ কি  বলছে  দেখ  এটা FLORIDA -R  সাথে একই  LATTITUDE-এ , যেহেতু  এখনো বেশ একটা নাবালিকা ভাব আছে,  কত  মিষ্টি  লাগে/ অথচ এখানকার যত্ত খান্ডারনি ঝড় আছে না --- সেই যে IKE , BEULLA , DOLLY --- বার তিনেক ছারখার করে দিয়েছে এই সুন্দরী দ্বীপটাকে/ এখনো  ১৬ বছরের  বালিকার সারল্য  মাধুর্য্য আর আকর্ষণ  আছে এই সমুদ্র সৈকতে/

হোটেলের  ঘর  বেশ  পছন্দ  হযেছে/ লম্বাটে  ঘর/ প্রথমে  ঢুকেই  সোফা  সেট , একটা  টেবিল/ আরও  একটা  টেবিল আছে  যেটাকে  ডাইনিং  টেবিল বলা  যেতে  পারে/ গোল / এলিয়ে  বসে  পা  মেলে  দেআর জন্য  একটা  ফুট  রেস্ট -ও  আছে / TV টা মস্ত / পাশে  কার্ড  রাখা  আছে  কোন  কোন  চ্যানেল  পাওয়া  যাবে  জানিয়ে / তার  পাশে  ফ্রিজ,এটা  আমাদের  খুব  দরকার  / সঙ্গে  শিশু / তার  খাবার আমরা  বাড়ি থেকে  নিয়ে  এসেছি  কোল্ড  প্যাক -এ/ সঙ্গে  সঙ্গে  ট্রান্সফার  করা হলো/ এখানে  আরও  একটা  ছোটখাট  টেবিল/ পাশে  micro wave / এটাও  ভারী  দরকারী/ বাচ্চার  খাবার  গরম  করা , বোতল  শুদ্ধিকরণ  ইত্যাদি  ইত্যাদি / মা  মেয়ে  লেগে  গেল  শিশুর পরিচর্যায় / তাকে  খাওয়ানো  একটা  প্রজেক্ট/ দুটি খাট -- বেশ  বড়/ গাড়ি  থেকে  সব  মাল  পত্র  নামিয়ে  ঘরটা  একদম  ছত্রখান  করে  ফেলেছি  আমরা / গাড়িতে বেরোলে দেখছি মাল পত্র বেশি আনা হয়/ যতক্ষণ না দিক্কি একদম বন্ধ হবে না, ততক্ষণ থামবে না/ আমাদের অবশ্য সাব্বুর জন্যই অনেক কিছু আনা হযেছে/মাত্র সাত মাস কযেকদিন/ আমরা কোনো চান্স নিতে চাই নি/

বেশতো  ওরা  বাচ্চার  দেখভাল  করুক, আমি  বেরিয়ে  পরলাম/ অনেকক্ষণ  সিগারেট  খাইনি/ সারা  আমেরিকায়  যেখানেই  গেছি  সিগারেট টানা  চলবে  না ঘরের  মধ্যে/ আরে ভাই, কি যে চলবে নার দেশে এসে পরলাম রে!

লম্বা  টানা  দোতলা বাড়ি/ পর  পর  ঘর/ একতলায় বারান্দা নেই, সামনে পার্কিং/ দোতলায় সামনে বারান্দা/ এত  বড়  বড়  ঘর  দিয়েছে/ ভাবছিলাম  পোষায় এদের ?পুরো  আবহাওয়ায়  একটা  আন্তরিকতা  আছে/ এমনকি  হোটেলে  যে সব নির্দেশাবলী থাকে তার  ভাষাও  ভারী  সুন্দর/ ফর্মাল  পর  পর  ভাষা  নয় / বেশ   যেন  নিজের  লোককে  বলা  হযেছে , তওয়ালেটা কোথায়  রাখতে  হবে , changer  কি  বন্দোবস্ত , চেক  আউট   টাইম... .. এই  সব / যেমন সব হোটেলেই থাকে/ এখানে যেন বাড়তি যত্ন নেওয়া হযেছে টুরিস্ট দের কথা মাথায় রেখে/ পার্কিং  লটে দেখলাম  অন্তত  গোটা পঞ্চাশেক  গাড়ি/ মাঝা মাঝি  সুইমিং পুল / বেশ  আব্রু দেওয়া/ দরকার  ছিল  কিনা  জানিনা / কারণ  এখানে  সবাই  বেশ  খোলামেলা/ ডান দিক  বাঁদিক দিয়ে  যখন  তখন  কম  বয়সী  ছেলে  মেয়েরা  হাত  ধরাধরি  করে হেঁটে  যাচ্ছে / বিকিনি  পরা/ সাগরের  ধারে  সুইমিং  পুল ? দেখলাম  দরকার  আছে , কারণ  ফাঁকা  নেই/ দু  একটা  ফ্যামিলি  দাপাচ্ছে / এদের  বীচে  প্রাইভেট আচ্সেস  আছে / কোথায়  সেটা ? জানা  গেল  গেটে  এদের  ইলেক্ট্রনিক  কার্ড  ব্যবহার  করতে  হবে , পরের   গেটে  ন্যুমেরিকাল  কোড/ বেশ  বড়  বড়  করে  লেখা  "লাইফ গার্ড  নেই, জান   নিজ  দাইত্তে  রাখিবেন ". আমি  কোড   আনিনি , পরে   দেখা  যাবে /

আমি বেরিয়ে পরলাম/ ডানদিক দিয়ে এসেছি/ বাঁদিকটাই ধরলাম/ সামনেটা ফাঁকা/ সমুদ্র দেখা যাচ্ছে/ একটু হেঁটে দেখি/ কিছু ঘর বাড়ি হোটেল মোটেল ছেড়ে যেতেই রাস্তা কি রকম একা হযে গেল/ ডানদিকে সমুদ্র একটু দুরে / একটাই রাস্তা চলে গেছে/ ডাইনে বালির পাহাড় আসতে আসতে বড় হযে উঠছে/ মাঝখানে পিচের রাস্তা ঠিক পরিস্কার নয় আর / বালি এসে পড়েছে রাস্তায়/ আমি একা /হঠাত মনে হলো আমি এইরকম জায়গায় আগেও এসেছি/ কোনো উপন্যাস শেষ হযে গেলেও যেমন একটা রেশ থেকে যায়/ অনেকটা সেই রকম/ চরিত্রেরা একটা জায়াগায় থেমে যায়/ মন চলতে থাকে ওদের সাথে/ সেই রকম/ এই রকম কোথাও আমিও  ছিলাম/ সাগরে না মরুভূমিতে মনে নেই/ তখন সাদা বালি এই রকম সেজে উঠলে  বুঝতে পারতাম ওরা কি বলতে চায়/ বালির এই স্তুপেও  যেন কোনো একটা কথা বলা হচ্ছে আমাকে / এখন প্রকৃতির এই ভাষা আমি জানিনা/ কিন্তু কিছু যে একটা বলা হচ্ছে বেশ বুজতে পারছি/ হঠাত  একটা ফাঁক পেয়ে সাগর আমায় এক ঝলক দেখে নিল/ সূর্য্য অস্ত গেছে/ লোকে এখানে এসে একপাশে সূর্যদয় দেখে, অন্য পাশে সূর্যাস্ত / আমাদের সূর্যাস্ত দেখা হবে না/ কালই তো ফিরে যাব/

ফিরে যাওয়া উচিত ওরা আমাকে খুঁজবে/

একটা হলুদ রঙের বাস --- একটু পুরনো স্টাইল-- চলে গেল/ ভেতরে দু এক জন বসে/ তাই? এখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আছে তাহলে!হোটেল থেকে বেরিয়ে একজন দুদ্দার করে ছুটে এসে হাত দেখালো বাসটাকে/ থামল না/ একটু অবাকই হলাম/ এখানে সবাইতো গাড়ি নিয়ে আসে! লোকটা কোন হোটেল থেকে বেরোলো? হাতে একটা ফোলিও, কাঁধে লাপটপ/ আরে! এটাত আমাদেরই হোটেল/ ঢোকার মুখে দেখলাম ভারী সুন্দর কাঠের কাজ/ সেই যে মস্ত গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে পড়লে তাতে সামান্য ছুরির কোপে সুন্দুর সব ভাস্কর্য্য ফুটে ওঠে, সেই/ বেশ জরামরী করে থাকা অনেক ডালপালা থেকে ভারী সুন্দর কাজ করেছে--- এক ঝাঁক ডলফিন. পাশে দুটো ফ্যালকন / ঢোকার সময় তো চোখে পরেনি! যাই ওদের ডেকে দেখাই/

















সবাই একটু কিছু খেয়ে নিয়েছে/ ফ্রেশ, বেড়াবার জন্য ব্যস্ত/ কোথায় গেছিলে তুমি? মৃদু বকুনি শুনতে হল/ পাশ কাটিয়ে বললাম চলো দারুন একটা জিনিস দেখাবো/ আমরা গাড়ি নিয়ে বেরোলাম/ চলো দেখে আসি দ্বীপটার শেষ কোথায়/ অন্ধকার হযে আসছে/ প্রাইভেট বীচে কাল যাব স্নান করতে, আজ দেখা যাক ওই নির্জন দিকটায় কি কি আছে/

সবাই বেরিয়ে পরলাম/ আধো অন্ধকার/ ডানহাতে একটার পর একটা নোটিস আসছে, পাবলিক way  to  the  বীচ/ আমরা টার্গেট করেছিলাম একবার এই রাস্তার শেষটা দেখে আসি, তারপর বীচের দিকে যাব/ পাঁচ নম্বর  নোটিস দেখার পর আমরা মত পাল্টালাম/ বেশ আঁধার হযে এসেছে, চলো বীচটাই দেখে আসি/ ডানদিকে ঘুরল  গাড়ি/ পার্কিং লট-এ গাড়ি রেখে আমরা ঢুকলাম বীচের দিকে/ বালির ওপর গাড়ি চালানোর  নিষেধাগ্গা  কেউই মানছে না/ নাহ! আমরা রিস্ক নেব না/ আধো আলোতে বেশ লাগলো সাগরের ভেজা ঝলক/ সাব্বু এই প্রথম পেল সাগরের আদর/ ওর মনে থাকবে সাড়ে সাত মাসে প্র্যাম চরে প্রথম সমুদ্র সৈকতে  আসা? ও হয়ত এদেশেই থাকবে/ আজ থেকে পনের বছর বাদে কার হাত ধরে কোন বীচে পা রাখবে? মনে পড়বে আজকের কথা?



সিগালরা দিনের শেষ চক্কর মেরে নিচ্ছে/ থাকে কোথায় এরা? নিচু হযে একটু জল ছেনে নিলাম, গালফ অফ MEXICO ! পৃথিবীতে কত কত সাগর সৈকত আছে! কত জায়গায় যেতে পেরেছি, নীচু হযে ছুঁতে পেরেছি জল? বাঁদিক থেকে হেড লাইট  জ্বেলে গাড়ি আসছে একঝাঁক/ তার মানে এরা ওই দিকে আরও গভীরে গেছিল! একটু বয়স্ক  গাড়ি ভরা পুরুষ মহিলা / সবাইকেই একটু মত্ত মনে হলো/ কিন্তু কেউ বেলেল্লাপনা   করছে না/ এখানে কেউ জোরে কথা বলে না , এরা একটু জোরেই হল্লা করছে/ সিগালরা ক্য়ান ক্য়ান করে বাজিয়ে দিল দিন শেষের বাঁশি/ ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে/ সাব্বুর কি ঠান্ডা লাগছে? ঠান্ডা বালিতে একটু এলিয়ে বসার কথা/ একদম হিসেব না করে বইএ  দেবার  কথা অনেকটা সময়/
হিসেব নেই কতটা সময় গেছে/ হোটেলে ফেরার সময় দেখলাম রাতের লোকেরা সব বেরিয়ে পড়েছে/ সিগারেট নেই/ ওরা খাবারের যা ব্যবস্থা করবে করুক বেরিয়ে পরলাম সিগারেটের খোঁজে/ এখানে দোকান কতক্ষণ খোলা কে জানে/ সারা আমেরিকাতেই দোকান পাট এক রকমের সাজে আসে চোখের সামনে/ এটা একদম ভালো লাগেনি এখানে/ একটু অন্যরকম, একটু অগোছালো দেখলে যেন ভালো লাগত/ মজা লাগলো একটা দোকানের সাজ দেখে/ মন বলল এইত্ত এই রকমটাই খুজছিলাম যেন! কিন্তু ওগুলো কি? রাস্তার দিকের পুরো কাচটাই আড়াই বাই দেড় রঙিন সব টুকরো দিয়ে সাজানো/ বেশ যে একটা দৃষ্টি নন্দন ব্যাপার হযেছে এমন মনে করার কারণ নেই/ তবে চোখ টানবেই/ তাহলেইত হযে গেল/ এই যেমন আমি তাকিয়ে আছি/ ওগুলো স্কেট বোর্ডের মত জলে ভেসে থাকার বোর্ড/ স্কেটবোর্ডের  মত ওয়াটারবোর্ড বলতে পারছিনা/ ওটা এক রকম ভয়ংকর অত্যাচারের নাম/ একটা বোর্ডে একটা মানুষকে বেঁধে তারপর হুরমুর করে জল ঢালা! কেমন মনে হবে না ডুবে যাচ্ছি?দম নেবার জন্য হাঁসফাঁস করব? এটা ঐরকমই/ বোর্ডের ওপর শুয়ে থাকুক শিশু, বোর্ড ভাসুক জলে! সুখের ব্যাপার/ সাঁতার জানো না? তাই বলে এইরকম একটা জায়গায় এসে জল থেকে দুরে থাকবে? এই রকম একটা বোর্ড কিনে ভেসে পর/ একটা দড়ি লাগানো আছে/ সঙ্গিনী যদি সাঁতার জানে তাহলে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে বৈকি! আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে.... কখন যে কোন গান মনে আসে!

রাতের খাওয়া হযে গেছে/ বাইরে পার্কিং লট-এ একটু সিগারেট খেতে বেরোলাম/ তার আগে গন্ধ পেয়েছি একটু কেমন যেন পোড়া পোড়া/ ব্যাপারটা কি? প্রথমেই নজর হলো সেই ফ্যামিলিটা এখনো সুইমিং পুলে / বাবা পাড়ে বসে beer ক্যান খতম করছে/ মা আর বড় মেয়ে ছোটোটাকে মাথার ওপর তুলে জলে ছুঁড়ে দিচ্ছে / রাত নটা/  এখানে কি পুল বন্ধ হয় না? দেখলাম ২৪ ঘন্টা খোলা পুল/ এককোনে এক দঙ্গল ছেলে মেয়ে জড়ো হযেছে, এক পিস দু পিস বিকিনি পড়ে/ না, না, উত্তেজিত হবার কিছু নেই / মেয়েরা টু পিস, ছেলেরা এক পিস!ওরা একটা বার বি কিউ মত করছে/ পোড়া গন্ধটা ওখান থেকেই আসছে/ ওরা সবাই এর পর সমুদ্রে নামবে/

আমরা ভাবলাম এইবার একটু দেখে আসি প্রাইভেট বীচ ব্যাপারটা কি? এদের সাইট-এ দেওয়া আছে সী ভিউ/ তার কোনো নাম গন্ধ নেই/ ও পথে যেতেই চোখে পড়ল অনেক স্পিড বোট পার্ক করা আছে/ আচ্ছা এই বন্দোবস্ত-ও আছে/ বেশ বেশ/ আমি ভাবছিলাম সেই লোকটার কথা যাকে সেই আধা অন্ধকারে ঘুড়ি ওড়াতে দেখেছি/ প্রায় আঁধার আকাশে আমাদের পতাকার মত তেরঙ্গা একটা চারকোনায় বেঁধে ওড়াচ্ছে / মস্ত বড় হবে/ অত উচুঁতেও কত বড় লাগছে! খালি গা, হাফ প্যান্ট পড়া/ কলকাতার সেই ছেলে ছোকরাদের কথা মনে পড়ল! যারা একটা প্লাস্টিকের ব্যাগের দুই মাথায় সুতো বেঁধে রাস্তায় দৌরোয়/ একই ঘুড়ি ওড়ানোর নেশা, হাফ পান্ট খালি গা!

এই সেই গলি পূব দিকে সমুদ্রে পড়ছে।পাশে দেখা যাচ্ছে বসত বাড়িটি যাদের জানালা থেকে রোজ সমুদ্র দেখা যায়।
যা বুঝলাম এদের সামনেটা একদম খোলা ছিল সৈকত পর্যন্ত/ এখন ওখানে মস্ত একটা condo / আমদের  ভাষায় মাল্টি স্টোরি/ এখন ওদের সাথে কথা বলে ছোট্ট একটা পাসেজ পাওয়া গেছে/ তারই দুই মাথায় গেট/ আমরা কার্ড, কোড দুই-ই এনেছি/ ছেলে মেয়ের দল আমাদে র্পিছু নিল/ যেই আমরা গেট খুলে ঢুকছি ওরাও ঢুকে পড়ছে সাথে সাথে/ মাঝে পিপড়ে বাহিনী আমাদের বুঝিয়ে দিল ওদের এই সময় ডিস্টার্ব করা ঠিক হয় নি/ ছেলে মেয়ের দল বীচে নেমেই পটাপট ছবি তুলতে শুরু করলো সোরগোল করে/ আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে/ ফেরার সময় কার্ড লাগেনা/ ওরা চলে গেল আমাদের চোখের বাইরে/ মস্তি/

condo বলতে মনে পড়ল এখানকার  একটা গল্প/ এখানে নাকি মস্ত একটা condo হচ্ছিল/ ৩১ তলা হবার পড়ে দেখা গেল ওটা ঠিক মত সোজা হযে বসছে না/ মাথায় হাত/ অনেক মিটিং হলো, বাঁচানোর চেষ্টা হলো বাড়িটাকে/ দেখা গেল নাহ! উপায় নেই/ implosion করে ভেঙ্গে ফেলা হলো বাড়িটাকে/ implosion মানে একটা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ যাতে কিনা বাড়িটা ভেতরের দিকে ভেঙ্গে পড়ে/ এটা নাকি এখানে সবচেয়ে বড় implosion / ফেরার পথে দশ তলা condotar  দিকে তাকালাম/ একটু বেঁকা মনে হচ্ছে না!

ঘন রাতের হালকা হিমেল হওয়া খেয়ে আমরা বাড়ির পথ ধরলাম/ কার পার্কে দেখি খালি গায়ে হাফ পান্ট পড়ে একজন মস্ত একটা কিছু হোস দিয়ে ধোলাই করছে/ ekhane  কেউ কৌতুহল দেখায় না/ আমি এখানকার লোক নই/ জানতে ইচ্ছে হলো সেই ঘুড়িটা নয়তো? এত বড়! হাঁ, এই সেই লোক/ একটু আলাপ শুরু করতেই গর গর করে বলতে শুরু করলো/ আমি সাগর বেলায় ঘুড়ি ওড়াতে যাই/ মাঝে মাঝে আমাকে সাত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়/ জানোতো , বেশ ভালো হওয়া না উঠলে ওড়ানো যায় না এই ঘুড়ি! কি করো? অপেক্ষা করি/ এইত, দেখনা  আজ তিন দিন বাদে ওড়াতে পারলাম শেষ বেলায়/ এখন কি করছ? এত্ত বালি লেগে যায়  না! পরিস্কার না করে রাখলে ওড়াতে অসুবিধে/
বেড়াতে এলে এটাই ভালো লাগে আমার/ আলাপ হলো একজনের সাথে যার সাগর পাড়ে ঘুড়ি ওড়ানোর শখ!আর কোনো দিন দেখা হবে না/

জবাকুসুম সংকাশং কাশ্যাপেয়ং মহাদ্যুতিম ধান্তারিং সর্বাপাপঘ্নম প্রণোহতস্মি   দিবাকরম  ---- সূর্য্য প্রনাম মন্ত্র/ মনে পড়ে গেল, কারণ বেশ বেলা হযে গেছে/ মানে সূর্যোদয় দেখা হলো না আর/ পাদ্রে, আমাকে আর একবারের নেমন্তন্ন দিয়ে রাখো/ যদি হয়, পরেরবার নিশ্চই দেখব/
এখানে চেক আউট টাইম সকাল এগারোটা/ এখনি প্রায় নটা বাজে/ কাল আমরা অনেক রাত করে ফেলেছিলাম/ ঠিকই ছিল/ তারপর একটু নিশ্চিন্ত ঘুমের দরকার ছিল কিনা! সঙ্গে বাচ্চা নিয়ে বেরোলে এটা মাথায় রাখতে হবে নিশ্চিন্ত ঘুম নাও হতে পারে/ সারা ঘর অগোছালো হয়ে আছে/ সাব্বুকে তৈরী করা আছে/ এখনো সমুদ্র স্নান  হয়নি/ সাগর পারে এসে স্নান না করেই চলে যাব নাকি? প্রথম পছন্দ হলো আরও একদিন থেকেই যাই/ এই, এই রকম হুট করে বললেই হলো নাকি/ কলেজ লাইফে চলতে পারে/ দুম করে কেটে পড়লাম/ একদম উড়িয়ে দেওয়া  গেল না ইচ্ছেটা/দেখাই যাক না/ বেরিয়ে পরলাম আমরা/ সাব্বুকে একটা মিষ্টি কসটুম পড়ানো হযেছে / ছবি তোলো, ছবি তোলো/

/
চলো যাই সাগরে 
কি হলো, রাগ হলো নাকি 


আর কত ছবি উঠবে জানতে পারি? কখন যাবে?
গুটি গুটি আমরা চললাম সাগর সঙ্গমে/ আমাদের সাথে আরও অনেকে চলেছে/ এক সাদা ফামিলি চলছে/ বেশ মধ্যবিত্ত ভাব/ বাবার কাঁধে অনেক বোঝা/ প্রথমে তো আছে ছেলে/ সে কাঁধে চরে বসে আছে/ দীঘার দৃশ্য / ফারাক আছে/অন্য কাঁধে বোর্ড/ একটু পেছনে মা, মেয়ে/ ওদের কাছে ক্যামেরা,খাবার দাবার --- বলতে চিপস আর নানা রঙের পানীয়/ পোশাকটা দীঘার তুলনায় অন্যরকম/ ওখানে মা শাড়ি পরে, বুকের ওপর ফেলা থাকে গামছা/ এখানে টু পিস তা দেহের মাপজোক যাই হোক না কেন! যাক গে, এখানে কিন্তু ব্রেকফাস্ট অন the হাউস / কফি মাফিন/ যতো পারো খাও/ কেউই প্রায় খায় না, তুলে রেখে দেয়/ সঙ্গে রাখে, যদি জলে দাপাতে  দাপাতে খিদে লাগে! আমরা সেই কাঠের সরু পথে (কাল রাতেই দেখে গেছি এই সরু রাস্তাটা)পৌছে গেলাম সমুদ্রের ধারে/ সাব্বু এমন একটা উল্লাসের হুঙ্কার দিল! বুঝিয়ে দিল XYZ ছেড়ে এ আসছে একদম নতুন করে শুরু করতে/ জেনারেশন A /

জলে পা
কেন জানিনা আমাদের বাড়ির কাটুল কুটুলের কথা মনে পরে গেল।ওরা দুজনে সাগর দেখছে? সাগরের বালিতে লুটোপুটি করছে দুটো কাঠবিড়ালি কেমন লাগত?

সাগর পারে অনেক খাটিয়া রাখা আছে/ ওই রকম দেশী খাটিয়া (একদম ব্রাত্য ভাবলে চলবে না কিন্তু,এখানে খাটিয়া বিক্রি হয়, একদম দেশী মাল, তফাত বলতে কাঠের পায়াগুলো পালিশ করা, $৬০০ দাম!)ভাবলে চলবে না/ আলুমিনিআম,কয়ার বোনা / টেনে নিয়ে এলিয়ে পড় / বোঝা গেল না বুঝি? ওই যে হিন্দী সিনেমায় নায়করা যেমন সুইমিং পুলের পাশে হাতে গেলাস নিয়ে শুএ পরে না, তেমন বন্দোবস্ত/ এক একটা ফ্যামিলি দু তিনখানা খাটিয়া টেনে নিয়ে খাবার দাবার সংসার সাজিয়ে বসে পড়ছে। সবাই একটু একটু দুরত্ব রেখে বসছে। প্রাইভেসির ব্যাপার আছে না! কেউ কেউ ছাতাও এনেছে/ আসতে আসতে সেজে উঠছে সৈকত। আমাদের নজর নেই একটু ছবি টবি তুলে টান মেরে  গেঞ্জি খুলে ফেললাম।



















সাব্বুকে কোলে  নিয়ে নেমে পড়লাম/ ওকে জলে নামিয়ে দিলাম। ওর হাঁটু পর্যন্ত ডোবা/ জল আসছে। যাচ্ছে। বালুবেলায় যেমনটা হয়।সিরসির করে পায়ের নিচে থেকে সরে যায় বালি। গা সিরসির করে।আমি ওর মুখের দিকে চেয়ে আছি, বোঝার চেষ্টা করছি ওর অনুভূতিগুলো।ভারী একটা আনন্দের অনুভূতি নিয়ে।ওরা ছবি তুলছে।চল চল আরও একটু এগিয়ে যাই।জলের ঝাপটায় লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে সাব্বু / সঙ্গে ওর নিজস্ব ভাষায় অনুপম সব শব্দ!



















না, না, এইবার ওঠো ওর ঠান্ডা লেগে যাবে।অগত্যা।দিম্মা আর ওর বাবা ওকে নিয়ে ফিরে গেল। আমি আর মামন রয়ে গেলাম। এইবার একটু দাপিয়ে নেওয়া যাক ভেবে এগিয়ে চললাম। পেছন থেকে মামন বল্লো পাপা, ওই যেখানে বড় ঢেউগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে ওখানে কিন্তু হঠাত করে গভীর অনেকটা।ওর কথায় ভালবাসা মাখা আছে।একটা ভালোলাগার শিহরণ অনুভব করলাম।



সামনে সমুদ্র রৌদ্রস্নান করছে।খুশিতে ছোট  ছোট ঢেউ তুলে ছড়াচ্ছে ওর খুশি।চকচক করছে খুশি আমাকে ঘিরে।পেছনে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বালির ঘর বানাচ্ছে। এখানে ওরা ছোট ছোট কোদাল আর বেলচা দিয়ে বালির ঘর বানায়!হাত দিয়ে বালি  ঘাটার যে মজা, সেটা ওরা পায় কি?রঙিন ছাতা, ছোট ছোট খাটিয়ায় এলিয়ে বসা মেয়ে পুরুষ, নানা রঙিন পানীয়, ছোট ছোট খুশির উল্লাস!পুরো বীচে একটা আনন্দের চাদর জড়িয়ে আছে। সিগাল দম্পতি এক চক্কর মেরে ছবি তুলে একটু দুরে গিয়ে বসলো, আজকের বীচের ছবি আঁকতে. আরো একটু দুরে যেখানে মানুষের ভিড় নেই, একটা ছোট্ট পাখি খুটে খুটে দুপুরের খাওয়া সেরে নিচ্ছে। মামন পাড়ের কাছেই. মনে হলো ছোটটা অনেক দুরে কলকাতায় গরমে কষ্ট পাচ্ছে, আমাদের সাথে এখানে থাকলে ভালো হতো আরও।


নাহ!পেছন ফিরলাম।চশমা কি নোনা জলের ঝাপটায় ঝাপসা, নাকি মন খারাপ?আর একবার পাদ্রে সৈকতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মন্দার্মনির মতো এই তটও বুঝি একা একা থাকতে ভালোবাসে? বেশী হৈ হৈ, বেশী শোরগোল ওর পছন্দ নয়।

সমুদ্র স্নানের পর মিঠে জলে স্নান করার জন্য ঝরনা তলায় দাড়িয়ে পরলাম। বহু দিন বাদে খোলা আকাশের নীচে স্নান করছি। বেশ লাগছে কিন্তু। সামনেই ঘুড়ি পাগল অর ঘুরি নিয়ে ধস্তাধস্তি করছে।বেশ চনমনে রোদ উঠেছে। ও ঘুরি শুকিয়ে নিচ্ছে।ঘুড়িটাও বদমাস আছে।কিছুতেই চুপটি করে শুএ থাকবে না।একটু হওয়াতেই ঝটপট করে ওলটপালট করছে। বললাম মে আই হেল্প ইউ? আরে না না থ্যাঙ্ক ইউ। আমার ঘুড়ি আমাকেই সামলাতে দাও।
সবাই মোটামুটি তৈরী। আমরা ফোন করে বললাম আমাদের বেরোতে বেরোতে একটু দেরী হবে।ফ্রন্ট ডেস্ক বলল ঠিক আছে, ঠিক আছে, টেক ইওর টাইম/

পুরো দল তৈরী।বেরিয়ে পরারলাম আমরা।গাড়ি ঘোরাও/ দেখে নেওয়া যাক এই দ্বীপের শেষ কোথায়। শেষ কোথায়,শেষ কোথায়।.... গাড়ি চলল। ডান  দিকে স্যান্ড দিউন।  এখানে বালির সাথে একটা নতুন জিনিস দেখেছি।এক থোকা  আঙুর নিয়ে টকাটক আঙুর সব খেয়ে ফেললে যেটা পড়ে থাকে, সেই রকম একটা কাঠি কাঠি থোকা পরে আছে এখানে ওখানে। এগুলো seaweed, এখানে sanddune ধরে রাখার জন্য ভীষণ দরকারী। ঠিক এইরকম আগে দেখিনি কিন্তু কথাও। একদম সাদা বালি এখানে, এটাও একটা ভালো লাগার কারণ।নোংরা সীবীচ দেখেছি অনেক।ওখানে বালির ক্ষয় ঠেকানোর জন্য ক্যান, প্লাস্টিক আছে!


একদম শেষ মাথায় চলে গেলাম।লেখা আছে, আর যেও না, রাস্তা এখানেই শেষ। কেউ নেই কথাও।একটা ফ্ল্যাগ লাগানো আছে বালিতে।একটা ছবি তলা যাক, পাদ্রে বিজয়ের ঢঙে/ মনসিজ একটু আগে নেমে গেছে।অর ক্যামেরা কথা বলতে গেছে বালির সাথে। একটা পুলিসের গাড়ি এসে দাড়ালো।একটা গাড়ি, চালু ইঞ্জিন, চারপাশে বালি, একটা লোক ভেতরে চুপ করে বসে থাকে। ও যদি একটু ভাবুক না হয় দিন কাটানো মুশকিল। এই রকম নির্জনে কাজ করতে কেমন লাগে ওর/ ও অবশ্য চুপচাপ থাকে না দেখলাম, বকবক করে চলেছে কারো সাথে।ফোন না থাকলে wireless আছে। কথাও কেউ নেই, আকাশে ভেসে আসা অচেনা শব্দে বেশ একটা অপার্থিব ফিলিং হলো। ওরা একটু ওপাশে ছবি তুলছে। চলো, চলো, ফেরা যাক।


আমাদের ব্রেকফাস্ট হয়নি। এখন দুপুরের খাওয়ার সময় হযে গেছে। এদিকে ফেরার পথে আমরা কনভেন্শন সেন্টার-এ থামলাম আমরা।দারুন জায়গাটা।বাড়ির বাইরেটা একটা আয়্কুঅরিয়াম -এর মতো, কি সুন্দর ফিনিশ!


এখানে গাড়ি ছেড়ে নেমে পরলাম আমরা। দল দু ভাগ হযে  গেল। আমরা দুজন ক্যামেরা নিয়ে নেচার ট্রেল-এ ঢুকে পড়লাম/ দারুন জায়গাটা বানিয়েছে। একদম জলা, বড় বড় ঘাস। লেখা আছে কামঠ আছে।পাখি অনেক।অনেক দুরে গাড়ি ছেড়ে এসেছি আমরা। এখানে পায়ে হেঁটে আসতে হয়।কথা আসতে বলো, চুপি চুপি চলো, ক্যামেরা তাক করো শব্দ না করে ছবিশিকার করো / জলার ওপর দিয়ে কাঠের পাটাতন বিছিয়ে পায়ে চলা পথ করে দিয়েছে।দুপাশে দেখতে দেখতে যাও।সাথে ক্যামেরা না থাকলেও সারা দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। আর একদিন থেকে গেলে হত না?









































অন্যদল ফিরে এসেছে।এবার মিলিয়ে দেখার পালা কার শিকার কত ভালো হযেছে/ এই বার ওই দিকটা দেখা যাক, যেদিকে অন্যসব বীচের মত আকর্ষণ ছড়ানো। যেদিকে হাই রাইজ, চকচকে হোটেল, একটু অফিস টফিস আছে। একটু ভালো খাবার জায়গা আছে।আমরা রওনা হওয়ার আগে খেয়ে নেব। খাওয়ার কথায় মনে পরে গেলো এক আজব খাওয়ার কথা। মালযসিয়ান  খেতে গেছিলাম, কি খেলাম তার চেয়ে কি খাই নি সেটা বেশি মনে আছে। মেনুতে ছিলো BASIL BEEF WITH RICE. বুদ্ধি করে নাম রেখেছে সুদ্ধি করার জন্য?


মামন আমার এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ/ যেকোনো জায়গায় গিয়ে নতুন নতুন খাবার বার করে আনবে যা ভালো লাগবেই। আমরা বসে আছি "water ranch ". ভারী ভালো নাম দিয়েছে কিন্তু। এখানে টিকিট কেটে লোকে "water ride "-এ যায়। ডলফিনের নাচ দেখো।সার্ফিং কর, রাফটিং করো, স্কি কর। এখন দুপুর প্রায় একটা।

সামনের কাউন্টারে সুবেশা মেয়েটি  ঝাপ বন্ধ করলো। বাইরে এসে ঘড়ি ঠিক করে দিল "next ride at six ". মস্ত ঘড়ি ছয়ে শুএ রইলো সোজা হযে/


thanks for coming to south padre with me. would love to have your comments.











৪টি মন্তব্য:

Cassia Bark বলেছেন...

khub bhalo hoyechhey post ta kaku...r Subbu ta ki mitti hoyechhey :)...onekdin pore tomader chhobi dekheo khub bhalo laglo...

ranjan বলেছেন...

cassia bark? tomaketo chinlam na! bhalo laglo jene je tumi porechho aar montabyo korechho. ektu tomar porichoy debe?

নামহীন বলেছেন...

aare papa, ota toh payel didi! bhalo hoechhe blog ta. gotla-r chhobigulo khub mishti eshechhe!

Madhurima বলেছেন...

ei blog ta agei porechilam but kono comments korechilam na tai ajke abar dhuke comment korchi..khub bhalo hoyeche blog ta..keep it up!!!